আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস সালামু আলা রসুলিল্লাহ। ওয়া আলা আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া মান ওয়ালাহ। হেরা গুহায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সর্বপ্রথম যে ওহি নাজিল হয় তা হচ্ছে—পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন (সুরা আলাক, আয়াত ১–৫)।
দুনিয়ার নিয়ম ও ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার জন্য যেমন জাগতিক শিক্ষার প্রয়োজন, তেমনি দ্বীনের হেফাজত এবং সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী করার জন্য দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজন। জ্ঞানচর্চার নানামুখী সুযোগ উন্মুক্ত করতে আইওএম আলিম কোর্সের পাশাপাশি বহু স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনা করছে।
আইওএম ইতিহাস
২০১৮ সালের কথা। মুফতি জুবায়ের আহমাদ—একজন আলেম, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক ও দাঈ—এবং ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মারছুছ—আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষিত—উম্মাহর কাছে বিশুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন।
তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় Islamic Online Madrasah (IOM)। যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা, মাজহাব বা মানহাজের মানুষের কাছে আল-কুরআনের বাণী পৌঁছে দেওয়াই এই অনলাইন শিক্ষা ও দাওয়াহ প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য। আইওএম স্বীকৃত মতাদর্শগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল; কোনো বিশেষ দলকে প্রমোট করা এর উদ্দেশ্য নয়।
আইওএম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মসজিদে নববীতে ১লা মহররম ১৪৪০ (১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮) উদ্বোধন হয়; ওয়েবসাইটটি তৈরি হয়েছিল ১৭ অক্টোবর ২০১৭। প্রথম ব্যাচে ১৩২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন, যাদের মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রশ্নোত্তর
IOM কি কোনো দল বা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান?
না, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্বীকৃত ধারার আলেম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার ক্লাস নিতে পারেন; বিষয়গুলো কোরআন ও হাদিস অনুসরণ করেই পড়ানো হয়, ইনশাআল্লাহ।
IOM থেকে কি আমি দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা দিতে পারব?
আইওএম-এর তিন বছরের আলিম প্রস্তুতিমূলক কোর্স সাধারণ শিক্ষার পটভূমির শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। এটি শেষ করে কওমি মাদ্রাসার কুদুরী জামাতে ভর্তি হয়ে হেদায়া, মিশকাত ও দাওরা পর্যন্ত পড়া যাবে। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা প্রয়োজনীয় চিঠির বিষয়ে আইওএম সহায়তা করবে, ইনশাআল্লাহ।
মেয়েদের কি নিকাব পড়ে ক্লাস করতে হবে? ছেলেমেয়ে কি একত্রে ক্লাস করবে?
অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীর ভিডিও শিক্ষক বা অন্য শিক্ষার্থী দেখেন না, তাই নিকাবের প্রয়োজন হয় না। তাজবীদ অনুশীলনে বোনদের জন্য নারী মুকাররিরাহর অধীনে আলাদা গ্রুপ থাকে। শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত নামের পরিবর্তে রোল বা স্টুডেন্ট আইডি দিয়ে যুক্ত হন।